গৌরব ও ঐতিহ্যের সফল এক সংগঠনের নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের মানচিত্রে যার অবদান স্মরনীয়। ইতিহাস বলে সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা সংগঠন ছাত্রলীগ। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখাসহ ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০’ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের পথচলাকে করেছে আরো প্রসারিত।
ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়ে অনেকেই জাতিয় নেতার আসনে বসতে পেরেছে, দেশের কল্যাণে নিজেদের মেধা দিয়ে দেশকে উপহার দিচ্ছে আধুনিকতার সর্বোচ্চ ছোঁয়া।
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে বরাবর অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যে কোন বড় বড় আন্দোলনে ন্যায্য দাবি আদায়ে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সমর্থন দিয়ে রাজপথে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বহুল আলোচিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেও রাজপথে অবস্থানসহ নানা কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে মানবতার হাত প্রসারিত করেছে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান বহু নেতা।
ছাত্রলীগ শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির স্লোগানে পরিচালিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আলোর রশ্মি ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত সমস্যা, কোন ব্যক্তির অপকর্মের দায়ভারে ও মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছে ছাত্রলীগ। সংগঠন একটি গঠনতন্ত্রের ধারায় পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজ এক বিশাল বট বৃক্ষের মত উচু ও ব্যাপক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সকলের তথ্য সঠিকভাবে সব-সময় যাচাই-বাছাই করা যথাযথভাবে সম্ভব হয় না। অনেক সময় শষ্যের ভেতর ভূত চলে আসে।
তবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোন ভূত লালন পালন করে না। শষ্যে ভূত থাকলে অবশ্যই তা সামনে আসবে, আর সামনে আসা মাত্র তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা নিতে বিন্দু পরিমান সময় ক্ষেপন করে না ছাত্রলীগ।
যে-কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তরিত ব্যবস্থা গ্রহণের নজির রয়েছে ছাত্রলীগের।
ভালবাসা ও সম্মানবোধ থেকেই একজন কর্মী ছাত্রলীগের পতাকা তলে অবস্থান নেন। ছাত্রলীগ একজন কর্মীর যৌবন ও মেধা দিয়ে এগিয়ে যায় প্রতিনিয়ত। ভাগ্যের দুয়ারে ছাত্রলীগের একজন কর্মী সব-সময় অসহায়। বাড়ি থেকে পাঠানো টাকা ও টিউশনির টাকা দিয়ে পড়াশুনা ও নিজের খরচ মিটিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং এ অংশ গ্রহণ করা। রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে কখনো কখনো রাজপথে মিটিং শেষে রং-চা বা শুকনো বিস্কুট চিবিয়ে খাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীর জীবনের অন্যতম ধারা।
পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্রলীগ কর্মী কোন ব্যবসা করতে পারবে না, ছাত্রলীগ কোন নেতা চাঁদাবাজী করে না। ছাত্রলীগ কোন নেতা টেন্ডারবাজী করে না। বাবার পাঠানো টাকা বা টিউশনির টাকায় একজন ছাত্রলীগ কর্মী রাজনীতি করে।
তবে অনেক বড় নেতাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে রাতারাতি হয়ে যান অঢেল টাকার মালিক, কিন্তু বাস্তব অর্থে ভাগ্যের দুয়ারে অসহায় হয়ে পরে রয় সেই ছাত্রলীগের কর্মীই!
শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ছায়া তলে কোন ছাত্রলীগ কর্মী অসৎ নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ট একটি ছাত্র ইউনিট হিসেবে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে এ প্রত্যাশা নিবেদিত সকল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।
বাস্তব অর্থে মনে হচ্ছে ছাত্রলীগ আজ এতিমদের সংগঠন। কারণ, কেউ পাশে এসে না দাঁড়ালেও বড় বড় উপদেশ, দোষারোপসহ বিভিন্ন ভাবে বড় নেতার ভূমিকা রাখতে মুখিয়ে থাকে।
অনেক কথাই বলা যায়, অবশেষে একটি কথাই বলতে হচ্ছে ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর ভেতর একজন আদর্শবান নেতা বাস করে, তাদের সঠিকভাবে পরিচর্চা করেন, যত্ন নেন, ভুল গুলো ধরিয়ে দিয়ে চলার সঠিক পথ দেখান। অর্থ একজন মানুষের জীবনের বড় শক্তি-সেখানেও আপনি অবদান রাখার চেষ্টা করুন, একদিন আপনার সাহায্য নিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্রলীগ কর্মীই দেশের রাজনীতিসহ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দূর হবে ছাত্রলীগ কর্মীদের হতাশা, আপনি হবেন আদর্শ ও মহান।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ কারো অন্যায়কে সমর্থন দিবেন না, কু প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও আস্থার ভ্যানগার্ড হয়ে কাজ করে যান। যে নেতা, যে বড় ভাই, আপনাকে সঠিক পরামর্শ ও দিক নিদের্শনা দিয়ে চলার পথ দেখাবে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করুন……