আনলিমিটেড নিউজ:: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক-স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রার সঙ্গে জিয়া পরিবারের যে আত্মিক বন্ধন, তারই ধারাবাহিকতা রক্ষার অজেয় উত্তরাধিকারের নাম তারেক রহমান। গুম-খুন, অবিচার-অত্যাচারে অতিষ্ঠ ১৭ কোটি মানুষের বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্বের নাম তারেক রহমান। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ বুকে ধারণ করে যে লাখ লাখ নেতাকর্মী নব্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে যুদ্ধ করছে, তাদের অনুপ্রেরণার নাম তারেক রহমান।

তারেক রহমানের সাথে দেখা হলে বা ফোনে কথা হলে সবার আগে নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেন। সংগঠনের কথা জিজ্ঞেস করেন। বাংলাদেশের নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সুদূর লন্ডনে বসে একজন মানুষ কতটা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগন নির্ভর চিন্তা ভাবনায় নিজেকে নিমজ্জিত রাখতে পারেন, তারেক রহমান তার জলন্ত প্রমাণ। তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় গুন হচ্ছে- চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি সম্ভাবনার কথা বলেন ও প্রবল চাপের মধ্যেও তিনি সদা অনড় থাকেন।

বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। যে দেশে তাঁর পিতা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সে দেশের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পদ্ধতি হিসেবে তৃণমূল রাজনীতিকে বেছে না নিলেও খুব একটা অসুবিধা হতো না। তবু তিনি ছুটে গেছেন তৃণমূল মানুষের কাছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে।

সে বার  দেশে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের শৈত্যপ্রবাহে মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের সাথে নিয়ে উনি চলে গেছেন সেখানে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে। এক দিনের জন্য গিয়ে তিন দিন ঘরে ফিরেননি। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ নিজে ভাগ করে নেয়ার অকৃত্রিম প্রবনতা তাঁর মধ্যে আমি দেখেছি। প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার আগেই তিনি সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠনের আওতায় তিনি ‘কমল বীজ প্রকল্প’, ‘হাঁস, মুরগী  ও ছাগল পালন জাতীয় কর্মসূচি’, ‘অ্যাজমা কেয়ার অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টার’, ‘বৃত্তি প্রকল্প’, ‘বন্যা পুনর্বাসন কার্যক্রম’, ‘কমল পানি প্রকল্প’ ও ‘সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি’সহ বেশ কিছু কর্মসূচি ও প্রকল্প শুরু করেন। “একটি উদ্যোগ একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা’ স্লোগান নিয়ে তিনি সারাদেশে গরিব-অসচ্ছল মানুষকে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী করতে নানা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। এভাবে তারেক রহমান রাজনীতিকে সেবায় পরিণত করেন। তার এই সেবামূলক রাজনৈতিক ভাবনা ও কর্মসূচি তাকে দেশব্যাপী যতটা না রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত করেছে, তার চেয়ে বেশি পরিচিত করেছে সেবক হিসেবে।

তিনি সারাদেশ ঘুরে বেড়াতেন। প্রায় প্রতিটি সফরেই আমি তাঁর সাথে থাকতাম। আর মুগ্ধ হয়ে দেখতাম, একজন উদারমনা, কর্তব্যপরায়ণ, পরিশ্রমী, সাবলীল ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তারেক রহমানকে। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে থাকা নেতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি গাড়ির ড্রাইভারদের না খাইয়ে কখনও তাঁকে খেতে বসতে দেখিনি।

তিনি আমাদেরকে সবসময় বলতেন এবং এখনও বলেন, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ কর। যারা দায়িত্বশীল পদে আছো তারা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশা আকাঙ্ক্ষার পক্ষে কাজ কর।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তারেক রহমানের পথচলা। সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারেক রহমান অবিচল। জিয়াউর রহমান যেমন দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য সার্ক গঠন করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। ঠিক তেমনি তারেক রহমানও কূটনৈতিকভাবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তাভাবনা করেন। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। ২০১৪ সালের ২৬ মে সোমবার নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই তারেক রহমান তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। সেই শুভেচ্ছা বার্তার শেষের লাইন দু’টি আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে। কারন সেই লাইন দু’টি একইসাথে সাহসী, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী ছিল। তারেক রহমান মোদীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে তা আপনার বিশেষ ভূমিকায় দূর হয়ে ইতিবাচক পরিমণ্ডল তৈরি হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”

তারেক রহমান রাজনীতির অঙ্গনে চিন্তাশীল এক নতুন প্রজন্মের প্রতীক। তাই তিনি দল ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য ২০০৫ সালে শুরু করেন তৃণমূল প্রতিনিধি সভা। যা তাঁকে শহীদ জিয়ার অনুসারী ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পরিমণ্ডলে আজ ব্যাপকভাবে সমাদৃত করেছে ও দেশব্যাপী তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি দেশ ও দলের সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই বর্তমান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় ন্যূনতম প্রমাণাদি ছাড়াই জোরপূর্বক রায় করাচ্ছে। সাঁজা ঘোষণা করছে। কোনও বিচারক ন্যায় বিচার করে তাঁকে নিরপরাধ ঘোষনা করলে সরকার সেই বিচারককে দেশছাড়া করছে। ক্ষমতাসীনরা ভালো করেই জানেন, তারেক রহমানকে এদেশের সাধারন জনগণ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখতে চায়।

তৃণমূল রাজনীতির প্রাণ পুরুষ জনাব তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন আজ। আজ এই শুভ দিনে তাঁর প্রতি রইলো সমস্ত শুভকামনা। বাংলাদেশের যুবসমাজের পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

শুভ জন্মদিন হে প্রিয় নেতা, প্রিয় ব্যক্তিত্ব, প্রিয় অভিভাবক!

-এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন
সভাপতি, যুবদল, ঢাকা মহানগর উত্তর।