দেশের রাজপথসহ সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দায়িত্বশীল অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। অসহায় শরণার্থী রোহিঙ্গাদের চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া ও তাদের নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানালেও, মিয়ানমান সরকার ও সেনাবাহিনীর নির্মম ও বর্বর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। এ দিকে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীসহ অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছে যে, রোহিঙ্গাদের আড়ালে অবৈধ্য অস্ত্র, মাদকসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠি বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে চলে আসছে। যদি তাই হয়, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তা ভীষণ হুমকীর সম্মুখীন।
বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ও সম্মান বিশ্বের সামনে মেলে ধরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যাদের হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে আলোকিত বা গর্জে ওঠা একটি সাহসি দলের ঠিকানা, সেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে বইছে নোংরা খেলা। যার ফলে খেলা প্রেমী হাজারো মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে “কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট”!
আরেকটি বিষয় হলো দেশের আইন ও বিচার বিভাগে অস্থিরতা। ষোড়শ সংশোধনীর রায়’কে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনা দৃশ্যমান হয়েছে। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগেই হঠাৎ করেই যেন সরকারের বিরোধীতাকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে গেলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা নিজেকে সুস্থ দাবি করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন ঘি ঢেলে দিয়ে গেলেন। তার এই ছুটিকে নিয়ে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, প্রধান বিচারপতি শারীরীকভাবে অসুস্থ, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই তিনি এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা কিছু না বললেও বিদেশ যাত্রা পথে “আমি সুস্থ আছি” এমন মন্তব্য করে আইন ও বিচার বিভাগকে ফের মুখোমুখি অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কেন?
আবার ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে কেন প্রধান বিচারপতি দেশে থাকা অবস্থায় এ অভিযোগ দাখিল হলো না?
অন্যদিকে, ব্যবসায়িকদের নানা অযুহাতে চালের বাজারে যেন আগুন। আর যার পুরোটা দায়ই পড়ছে সরকারের ওপর। কিন্তু কেন?

৩৫ টাকার চাল কেন ৭২ টাকা? ৮০ টাকার কাচা মরিচ কেন আড়াই’শ টাকা? এ ধরনের নানা বিষয়ে সরকারকে পড়তে হচ্ছে বিরম্বনায়।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধৈর্য্য, সাহসীক পদক্ষেপ ও দৃঢ় চিন্তা-শক্তিতে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এখন দায়িত্বশীল কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যর্থতা সর্বত্র আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। কিন্তু কেন? সরকারের যেখানে আগামী নির্বাচন নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেখানে কেন দু:শ্চিন্তা বাসা বাঁধবে? সব কিছুই কি রাজনীতি? নাকি অশুভ’র কোন ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বুঝতে হবে, আমরাও সাধারণ মানুষ- আমরাও বুঝতে চাই। সব-কিছুই যদি আপনাকেই দেখতে হয়, তবে তাদের দরকার কী, তাদের এতো বেশি কথা বলার প্রয়োজন আছে কি ….